সোমবার, ২৯ Jun ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ন
ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, কিলিয়ান এমবাপ্পে, লিওনেল মেসি ও পেদ্রো ভিতে। ছবি: সংগৃহীত স্পোর্টস ডেস্ক:: ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ৭২টি ম্যাচ শেষ হওয়ার পর শুরু হয়েছে নকআউট পর্বের উত্তেজনা। শেষ ৩২-এর লড়াই জমে উঠার আগে গ্রুপ পর্বে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে নিজেদের সেরা একাদশ প্রকাশ করেছে ফুটবল পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অপ্টা অ্যানালিস্ট।
অপ্টার নির্বাচিত একাদশে জায়গা পেয়েছেন কেপ ভার্দের দুই ফুটবলার, স্পেনের দুইজন, জাপান, ঘানা, যুক্তরাষ্ট্র, ইকুয়েডর, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, নরওয়ে ও ফ্রান্সের একজন করে খেলোয়াড়।
গোলপোস্টের নিচে রাখা হয়েছে কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়াকে। ৪০ বছর বয়সী এই গোলকিপার গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে দলকে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। স্পেনের বিপক্ষে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর উরুগুয়ের বিপক্ষে দুই গোল হজম করলেও আত্মবিশ্বাস হারাননি। সৌদি আরবের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের ম্যাচেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলের নকআউট নিশ্চিত করেন। গ্রুপ পর্বে উনাই সিমনের পর সর্বোচ্চ ক্লিনশিট এবং গোল প্রতিরোধের পরিসংখ্যানে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন তিনি।
রক্ষণভাগের ডান পাশে জায়গা পেয়েছেন ঘানার মারভিন সেনায়া। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার রক্ষণাত্মক পারফরম্যান্স ছিল গ্রুপ পর্বের অন্যতম সেরা। পুরো টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ১৮টি ট্যাকল করেছেন তিনি এবং ৩৮ দ্বৈরথের মধ্যে ২৪টিতে জয় পেয়েছেন। ‘ট্রু ট্যাকল’ সফলতার হার ছিল ৭২ শতাংশ।
সেন্টার-ব্যাক হিসেবে জায়গা পেয়েছেন কেপ ভার্দের দিনেই বোর্হেস এবং স্পেনের তরুণ ডিফেন্ডার পাও কুবারসি। দিনেই গ্রুপ পর্বে ৩১টি ক্লিয়ারেন্স করে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিলেন। পাশাপাশি দ্বৈরথে সফলতার হার ছিল ৬৮ শতাংশ। অন্যদিকে মাত্র ১৯ বছর বয়সী কুবারসি ২৯৪টি পাসের মধ্যে মাত্র পাঁচটি ভুল করেন এবং রক্ষণভাগ ভেঙে দেওয়া ৩৯টি পাস দিয়ে নিজের পরিণত ফুটবলবোধের পরিচয় দেন।
বাঁ প্রান্তে জায়গা পেয়েছেন জাপানের কেইতো নাকামুরা। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে গোল করার পাশাপাশি তিউনিসিয়ার বিপক্ষে আরেকটি গোল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। সাতটি ড্রিবলের মধ্যে পাঁচটি সফল করেন এবং আক্রমণে সরাসরি নয়বার সম্পৃক্ত ছিলেন।
মিডফিল্ডে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্টন ম্যাককেনি ও ইকুয়েডরের পেদ্রো ভিতে। ম্যাককেনি ওপেন প্লে থেকে সাতটি গোলের সুযোগ তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণে বাড়তি গতি যোগ করেন। অন্যদিকে পেদ্রো ভিতে আটটি সুযোগ তৈরি, ১৪টি ট্যাকলের চেষ্টা, ২৩ বার বল পুনরুদ্ধার এবং ২৩৪টি সফল পাস দিয়ে অলরাউন্ড নৈপুণ্য দেখান।
আক্রমণভাগে ডান উইংয়ে জায়গা পেয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমেও গোল করেন তিনি। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা সাত ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলার হওয়ার কীর্তি গড়েন। চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব শেষে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়ে।
বাঁ উইংয়ে রয়েছেন ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করে তিনি ব্রাজিলের হয়ে বিরল এক কীর্তি গড়েছেন। জাইরজিনহো, রোমারিও, রোনালদো ও রিভালদোর পর তিনিও গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচে গোল করার তালিকায় নাম লেখান।
স্ট্রাইকার হিসেবে অপ্টার একাদশে জায়গা পেয়েছেন নরওয়ের আর্লিং হালান্ড ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। মাত্র দুই ম্যাচ খেলেই চার গোল করেন হালান্ড। তার এক্সপেক্টেড গোল ছিল ২.৬৮ এবং শট কনভার্সন রেট ছিল ৪০ শতাংশ। অন্যদিকে এমবাপ্পে গ্রুপ পর্বে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে ছয়টি গোলে অবদান রাখেন। টানা তিনটি বিশ্বকাপ আসরে অন্তত দুই গোল করার কীর্তিও গড়েছেন ফরাসি এই তারকা।
গ্রুপ পর্বে ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, পরিসংখ্যান এবং দলের সাফল্যে অবদানের ভিত্তিতেই অপ্টা অ্যানালিস্ট এই একাদশ নির্বাচন করেছে। নকআউট পর্বে এই ফুটবলারদের পারফরম্যান্সের দিকেও এখন থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের বাড়তি নজর।